রাজধানীতে ঈদ মিছিলসহ ৩ দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন এনসিপির
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদ আনন্দ মিছিল উদযাপন কমিটি-২০২৬’ এর পক্ষ থেকে এ বছরের মিছিলের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যতম সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল হতো। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসবের প্রতীক। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মোঘল সম্রাজ্য চলাকালেও ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিল হয়ে উঠেছিল ভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে ঈদের মিছিল নাগরিক জীবনের প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে উপনিবেশিক শাসন ও উঁচু জাতের জমিদারদের সাংস্কৃতিক দমনে ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে এই উৎসবের আমেজ। বাঙালি মুসলমানের ওপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও স্বৈরাচারী শাসন ঈদের উৎসবকে একটি আমেজহীন ছুটির দিনে পরিণত করে।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের ওপর আঘাত হানে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঈদের মিছিল আবারও শুরু হয়। গত বছর রাজধানীর ঈদ মিছিলে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। ঈদ মিছিল শহরের সড়ক অতিক্রম করার সময় পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হন। শিশু, তরুণ ও প্রবীণ সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাস্তায় নেমে আসেন, ফলে পুরো শহর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নাগরিকদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হচ্ছে ঈদের মিছিল। এবার শুধু ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিলই নয়; বরং ঈদের আগের দিন থেকে টানা তিন দিন যাবত উদযাপিত হতে চলেছে ঈদ উৎসব।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজন করা হবে মেহেদী উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের যে কেউ এই মেহেদী উৎসবে শামিল হতে পারবে। চাঁদরাতে চলবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা আয়োজন। ঈদের দিন সকাল ১০টায় জাতীয় ঈদগাহের সামনে (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে ঈদের মিছিল শুরু হবে। ঈদের নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা থেকে নাগরিক উদ্যোগে ঝটিকা মিছিল নিয়ে ১০টার আগেই সবাই সেখানে জড়ো হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ঈদের বর্ণাঢ্য মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হওয়া ঝটিকা মিছিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের মিছিলে ঐতিহ্য অনুযায়ী থাকবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি, প্ল্যাকার্ড, হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ইত্যাদি।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ঈদের পরদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসবের। ঢাকার প্রাচীন এই ঘুড়ি উৎসবকে ঈদের উৎসবের সঙ্গে পালন করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি মিথস্ক্রিয়া তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, শিশু-কিশোরদের আগ্রহী করতে ঈদের মিছিলের বড় একটি অংশজুড়েই থাকবে কিডস জোন। শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই ঈদ উৎসবে ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নাগরিক উদ্যোগে এই আয়োজন বিধায় সর্বসাধারণের আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী যেকোনো তরুণও যুক্ত হতে পারবে এই আয়োজনের সঙ্গে।

নিজস্ব প্রতিবেদক