নিষেধাজ্ঞার ১৪ দিন পার, বরাদ্দ হলেও চাল পাননি জেলেরা
ইলিশের অভয়াশ্রম তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে গত ১ মার্চ। নিষেধাজ্ঞার ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নিবন্ধিত জেলেদের কপালে জোটেনি সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের গাফিলতির কারণে চাল বিতরণ থমকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো জেলে পরিবার বর্তমানে পবিত্র রমজান মাসে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য জনপ্রতি মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে মোট ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জন্য ৪৮০ মেট্রিক টন চালের ছাড়পত্র প্রদান করে। নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যানরা এই চাল গুদাম থেকে উত্তোলন করে বিতরণ করবেন। তবে দুই সপ্তাহ পার হলেও অধিকাংশ ইউনিয়নেই বিতরণ শুরু হয়নি।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে মাহবুব বেপারী বলেন, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, রোজার মাসে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে। চেয়ারম্যানকে চালের কথা বললে তিনি বলেন ঈদের পর দেবেন।
চাল বিতরণে বিলম্বের বিষয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বশার মৃধা ট্রলার সংকটের অজুহাত দিয়ে বলেন, চাল ঈদের পর দেওয়া হবে।
অন্যদিকে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার জানান, আগে ঈদ সহায়তার ১০ কেজি চাল বিতরণ শেষে জেলেদের চাল দেওয়া হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম.এ পারভেজ বলেন, ৬ হাজার জেলের জন্য ৪৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেনো এখনও বিতরণ করা হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না। আমরা দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, জেলেদের চাল দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগেই এটি সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)