গাজীপুরের মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের স্রোত
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। শিল্পনগরী গাজীপুরের তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছুটি হতে শুরু করায় রাজধানী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়ছেন লাখো কর্মজীবী। ফলে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মহাসড়ক—ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নিবন্ধিত ২ হাজার ১৭৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ১৫৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে। একযোগে ছুটি দিলে যানজটের আশঙ্কা থাকায় ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার বিকেল থেকেই শ্রমিকরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হতে শুরু করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অনেক কারখানায় ছুটি হওয়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তায় যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলার কারণে কিছু স্থানে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের সুবিধার্থে ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে। মহাসড়কে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার এস এম আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, মহানগর এলাকায় যানজট নিরসনে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া মহাসড়কে পেট্রোল ও মোবাইল টিমের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল যানবাহন সরিয়ে নিতে ৯টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুরের চিরচেনা যানজটের এলাকা চান্দনা-চৌরাস্তায় ঢাকামুখী ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়ায় এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর