ঈদযাত্রা : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রীদের ভিড়, স্বস্তিতে পারাপার
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাড়ির টানে মানুষ এই নৌরুট ব্যবহার করে বাড়ি ফিরছেন। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চ ঘাটে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের ভিড়।
ঈদের ছুটির কারণে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ভিড় থাকলেও তেমন কোনো ভোগান্তি না থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে নদী পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এবার যাত্রীদের পারাপারের জন্য ১৬টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরি ও লঞ্চ যাত্রীবোঝাই হয়ে দৌলতদিয়ায় পৌঁছাচ্ছে। ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত যানবাহন থাকায় যাত্রীরা সহজেই নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হতে পারছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, যাত্রীদের হয়রানি ও ভোগান্তি রোধে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার ও পুলিশ সুপার মো. মনজুর মোরশেদ সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ভাড়া ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।
ঢাকার মিরপুর থেকে বাড়ি ফেরা যাত্রী রিতা জানান, এবার কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নদী পার হতে পেরেছি। অতিরিক্ত ভাড়ারও কোনো ঝামেলা হয়নি।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ঈদ উপলক্ষে আগে থেকেই বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, লঞ্চ ও বাস মালিকদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। অতিরিক্ত ভাড়া সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ ছিল, তা সমাধান করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য লঞ্চ ঘাটে নিরাপদ পানি ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারও স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মনজুর মোরশেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো সমস্যায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ও সেবা কার্যক্রম তদারকিতে বিআইডব্লিউটিসির জেনারেল ম্যানেজার গোপাল চন্দ্র মজুমদার পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, পর্যাপ্ত ফেরির ব্যবস্থা রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো বড় সমস্যা নেই।
বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলী সদস্য ও যুগ্ম সচিব একেএম ফজলুল হক জানান, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আমরা কাজ করছি। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ ও ফেরিঘাটের এপ্রোচ সড়ক সংক্রান্ত কিছু বিষয় নজরে এসেছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, সকাল থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে, তবু কোনো যানজট বা বড় ধরনের ভোগান্তি নেই।

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী