সিরাজগঞ্জে কারাবন্দিদের ঈদ উৎসব
উৎসব আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদ। নানা পদের সুস্বাদু খাবার, নতুন পোশাকে ঈদের দিনে প্রতিটি পরিবারেই বসে প্রিয়জনদের মিলনমেলা। কিন্তু কারাগারে আটক কারাবন্দিরা চাইলেও পারে না পরিবারের সঙ্গে ঈদের উৎসব ভাগাভাগি করে নিতে। কারাবন্দিদের এই কষ্ট দূর করতে এবং তাদের উৎফুল্ল রাখতে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারেও ছিল নানা আয়োজন। মেহেদী উৎসব, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর বিশেষ খাবারে ঈদ আনন্দে মেতেছিল কয়েদি আর হাজতিরা।
এ দৃশ্য কোনো উন্মুক্ত মাঠে সাংস্কৃতিক আয়োজনের নয়, নয় কোনো গ্রামীণ ক্রীড়া আয়োজনেরও। খেলাধুলা, গান ও বাদ্যের তালে তালে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছিল জেলা কারাগারের কারাবন্দিরা। ছিল বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও।
কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি এই মানুষগুলোর ঈদ কিছুটা উৎসবমুখর করতে যমুনাপাড়ের এ জেলা কারাগারে করা হয় নানা আয়োজন।
কারা কর্মকর্তা, রক্ষী, কয়েদিরা সম্মিলিতভাবে দুদিন আগে থেকেই মেতে উঠেছিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের নানা আয়োজনে। কারা অভ্যন্তরে অস্থায়ী ঈদগাহ মাঠ সাজানো, মেহেদিতে হাত রাঙানোর পর ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরে নামাজ আদায়, ভালো খাবার গ্রহণ, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঈদ উৎসব পালন করেন এক হাজার ২৬ কারাবন্দি। ছিল স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগও। কারাবন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ এমন উৎসবমুখর সময় কাটার খবরে উচ্ছসিত ছিল তাদের দেখতে আসা স্বজনরাও।
ঈদুল ফিতরের দিনে কয়েদির জন্য রান্না করা হয়েছে বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তায় বন্দিদের দেওয়া হয় পায়েস-মুড়ি, দুপুরে দেওয়া হয় পোলাউয়ের সঙ্গে গরু বা খাসির মাংস ও মুরগির রোস্ট, মিষ্টান্ন-পান, রাতের খাবারে সাদা ভাত, আলুর দম এবং রুই মাছ ভাজি। পাশাপাশি ঈদের দিন সকাল থেকেই কারা ফটকে আসা সাক্ষাৎপ্রার্থীদের ফুল ও মিষ্টান্ন দিয়ে অভ্যর্থনা জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
ঈদ উপলক্ষে কারাবন্দিদের নতুন পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি তাদের হতদরিদ্র স্বজনদেরও দেওয়া হয়েছে ঈদ উপহার। পরিবার-পরিজন ছেড়ে কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি মানুষগুলোর উৎসব আনন্দ নিশ্চিতে এমন পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
বন্দিদের স্বজন জাহিদুল ইসলাম বলেন, কারাগারে আজকের পরিবেশ চমৎকার। ফুল নিয়ে ও মিষ্টি খাইয়ে আমাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। ঈদের দুই দিন কারা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ। কারাগারে আজ বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বন্দিরা জানিয়েছেন।
স্বজন মনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই কারাগারে আটক আছেন। আমি তাকে দেখতে এসেছি। পুরো কারাগারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আমি আমার ভাইয়ের জন্য বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনেছিলাম। কিন্তু ভিতরে দেওয়া হয়নি। আমার ভাই বলেছে কারাগারে ভিতরে বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেল সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কারাপরিদর্শকের নির্দেশনায় আমরা কারাগারে উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করি। এজন্য আমরা সব বন্দি, তাদের স্বজন ও স্টাফ নিয়ে ঈদের উৎসব পালন করি। গরিব বন্দিদের স্বজনদের খাদ্য সামগ্রী ও বন্দিদের বস্ত্র বিতরণ করেছি। সকাল থেকে কারাগারে উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদ পালিত হয়েছে। বন্দিদের উন্নতমানের বিশেষ খাবার দেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ