সরকারের জনস্বার্থ-বিরোধী কাজ মেনে নেব না : বিরোধী দলীয় নেতা
‘আমরা সরকারের ভালো কাজকে নৈতিক সমর্থন দেব, কিন্তু জনস্বার্থের বিরোধী কিছু হলে তা মেনে নেব না’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গত নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। গণভোটের এক অংশ বাস্তবায়ন হলেও, আরেক অংশ এখন পর্যন্ত উপেক্ষিত।
আজ রোববার (২২ মার্চ) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ইস্যুতে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এই রাষ্ট্রপতি কার্যত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি সংসদে ভাষণ দেবেন, তা আমরা চাইনি। রাষ্ট্রপতির প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের আপত্তি নেই, ব্যক্তি সম্পর্কে আপত্তি আছে।
এটা থেকে মুক্তি দিতে সরকারি দলের কাছে অনুরোধ জানান ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি বিএনপি ও তাদের দলের শুভাকাঙ্ক্ষী মহলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো যথেষ্ট লোক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমে গেছে। একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয়। সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জাতির দাবি। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার এই দাবি দ্রুত পূরণ করবে।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তবে এখনও সংকট কাটেনি। সমাজে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা বিদ্যমান।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদের একটা বড় অংশ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তার কালো ছায়া এখনও রয়ে গেছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, যা দুঃখজনক।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা অপেক্ষায়, এটা দ্রুত হওয়া উচিত।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জনগণের অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক