কসরত প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল কোয়ান্টাম কসমো স্কুল
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শনীতে বরাবরের মতোই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয়- তিনটি স্তরেই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে দুই দশকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের কুচকাওয়াজে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ২৯ জন চৌকস নারী শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত প্যারেড দলটি এক দৃষ্টিনন্দন পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। তাদের সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত প্যারেডে মুগ্ধ হয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়ে সবকটিতেই শীর্ষস্থান দখল করে কোয়ান্টাম। ৩২ জন করে সদস্যের ছোট ও বড় দুটি প্যারেড দল, ২৩ সদস্যের ব্যান্ড দল এবং ১৪৬ জন খুদে শিক্ষার্থীর সুসজ্জিত ডিসপ্লে দল তাদের অসাধারণ নৈপুণ্যে দর্শকদের বিমোহিত করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান।
লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্যারেড ও ডিসপ্লে- উভয় ইভেন্টেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিনের উপস্থিতিতে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের নৈপুণ্য উপভোগ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষালয়ে বর্তমানে দেশের ২২টি জাতিগোষ্ঠীর আড়াই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসিক সুবিধা ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করছে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিটেশন, ইয়োগা ও শুদ্ধাচার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাফল্যের এই ধারা কেবল মাঠের কুচকাওয়াজেই সীমাবদ্ধ নয়; বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। যার মধ্যে কেবল এই বছরই সুযোগ পেয়েছেন ৩৮ জন শিক্ষার্থী।

আমিনুল খন্দকার, বান্দরবান (আলিকদম-লামা)