কুমিল্লায় দুর্ঘটনা : তদন্ত প্রতিবেদনে মিলল ১১ জনের গাফিলতি
কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গেইটম্যান, স্টেশন মাস্টার, লোকোমাস্টার এবং সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও বিভাগের চরম দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, তদন্তে অন্তত ৬টি গুরুতর গাফিলতি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মোট ১১ জন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের ৪ জন গেইটম্যান, বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের ২ জন গেইটম্যান, লালমাই রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের দুইজন লোকোমাস্টার। এ ছাড়া সড়ক বিভাগের নির্মাণকাজে গাফিলতি এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস চালকের অবহেলার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে ৮ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ (শনিবার) দিনগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহণের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন। এ সময় আহত হন অন্তত ২০ জন। দুর্ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় এক বাসযাত্রীর দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজন গেইটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা