‘টপসয়েল’ কেটে ইট তৈরি, ৭ ইটভাটাকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা
কৃষিজমির উর্বর উপরের মাটি (টপসয়েল) কেটে ইট তৈরির অভিযোগে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় সাতটি ইটভাটাকে মোট ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সোমবার (৩০ মার্চ) দিনব্যাপী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এই জরিমানা আদায় করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এক শ্রেণির অসাধু ইটভাটা মালিক কৃষিজমির টপসয়েল কেটে ইট উৎপাদন করে আসছিল। এতে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং কমছে ফসল উৎপাদন। পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কৃষিজমির টপসয়েল কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। তাই আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।’
যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়
গাড়াদিয়ার মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং-কে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, গোবিন্দলের জে বি সি ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, বেরুন্ডীর কে এফ সি ব্রিকসকে চার লাখ টাকা, খোলাপাড়ার মেসার্স সোহান ব্রিকসকে চার লাখ টাকা, রামকান্তপুরের মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ ও মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ প্রত্যেকটিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে এবং একই এলাকার মেসার্স এম আর এম ব্রিকসকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্ত ইটভাটা মালিকরা জরিমানার এই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেছেন।
অভিযানটি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১৯-এর ধারা ৫(১) লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ১৫(১) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল ও প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মোজাফফর খান।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টপসয়েল একবার নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই অবিলম্বে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না করলে কৃষি ও পরিবেশ—উভয় খাতেই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ