শ্রমজীবীদের ওপর জুলুম বরদাশত করা হবে না : সেলিম উদ্দিন
জামায়াতে ইসলামী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় সংসদের ভেতর ও বাইরে যুগপৎভাবে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ৩৬নং ওয়ার্ড উন্নয়ন ফোরাম ও হাতিরঝিল থানা পূর্বের যৌথ উদ্যোগে অসহায় ও বেকারদের মাঝে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অটোরিকশা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা।
সেলিম উদ্দিন বলেন, শ্রমজীবী মানুষরাই রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের অন্যতম কারিগর। তাদের শ্রমই জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আরা অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত। জামায়াতে ইসলামী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর কোনো আঙুল তোলা বা জুলুম-নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, বরং তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে। আমরা অতীতেও শ্রমজীবী মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং আগামী দিনেও থাকব-ইনশাআল্লাহ। তিনি শ্রমিকদের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলসহ মালিক পক্ষকে খোলা মনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের এ সদস্য বলেন, জামায়াতের রাজনীতি কোনো বিশেষ নির্বাচন বা স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জনকল্যাণের রাজনীতি। জামায়াতের চার দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের কষ্ট লাঘব করা এবং বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো।
জামায়াতনেতা সেলিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, সমাজের বিত্তবানরা এবং রাজনৈতিক দলগুলো যদি অসহায়দের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নিত, তাহলে দেশের দারিদ্রতা আসতো সহনীয় পর্যায়ে।
দেশে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারত্বের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ আজ ত্রাহি-ত্রাহি অবস্থায় আছে। সরকার যদি সত্যিকারে মানবিক ও জনকল্যাণমুখী হয় এবং রাষ্ট্রীয় ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে, তবে এ সামাজিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব। জামায়াত চায়—একটি দায়িত্বশীল ও মানবিক সরকার, যারা জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবে। তিনি সেই কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও গণমুখী সরকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক