সড়ক দুর্ঘটনায় সাত প্রাণহানি : দুই উপজেলায় শোকের মাতম
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় একসঙ্গে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে সাতজন নিহত হওয়ার পর তাদের স্বজনেরা মরদেহ আনতে দাউদকান্দিতে পৌঁছেছেন।
গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনগত রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় চালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। হতাহত সবাই ধান কাটার শ্রমিক ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হলে তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে স্বজনেরা দ্রুত মরদেহ আনতে দাউদকান্দির উদ্দেশে রওনা দেন। বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের নেতৃত্বে তারা দাউদকান্দি পৌঁছেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলার কুচদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সবিবুর রহমান বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মরদেহগুলো নিয়ে তারা দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা করবেন। সকাল ৬টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পান তারা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে আত্মীয়স্বজন মিলে একটি মাইক্রোবাসে দ্রুত দাউদকান্দির উদ্দেশে রওনা হন তারা। বর্তমানে দাউদকান্দি থানায় অবস্থান করছেন তারা।
এ দুর্ঘটনায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মধ্যখালী মিশনপাড়ার মো. আজাদের ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন (৩৫), মো. আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০) ও ফজলুর রহমানের ছেলে আব্দুস সালেক (৪৫)। সোহরাব ও সালেক সম্পর্কে চাচা–ভাতিজা।
নিহত আপর চারজনের বাড়ি বিরামপুর উপজেলার নিশিবাপুর (ভাইগড়) গ্রামে। তারা হলেন পলাশের ছেলে সুমন (২১), মজিরুলের ছেলে আবু হোসেন (২৯), রাকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৮) এবং একই গ্রামের বিষু মিয়া (৩৪)।
নিহত আব্দুস সালেকের ছেলে সাগর বলেন, তার বাবা একজন দিনমজুর ছিলেন। ধানকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে সোমবার রাতে দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
সাগর বলেন, তাদের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্যখালী মিশনপাড়ায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে স্নাতকে পড়াশোনা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে তার পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে।
সালেকের ভাই ও সোহরাবের চাচা তরিকুল ইসলাম বলেন, সালেক আমার ভাই, সোহরাব আমার ভাতিজা, আর আফজাল আমার তালতো ভাই। একই পরিবারের দুজনসহ তিনজন ঘনিষ্ঠ স্বজনকে হারিয়ে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছি। বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেছে।
বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একসঙ্গে চারজন নিহত হওয়ায় গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা মরদেহ আনতে দাউদকান্দি গেছেন।
এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন আমির আলী (৪৫), তরিকুল ইসলাম (৫০), জালাল হোসেন (৩৭), মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮) এবং জাহাঙ্গীর আলম (৪০)।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)