মা-বাবার আদর পেতে ৬৬ লাখ টাকা কবিরাজকে দেয় কিশোরী : পিবিআই
ছোট ভাইবোনদের মা-বাবা বেশি আদর করেন—এমন অভিমান থেকে তাদের একটু বাড়তি ভালোবাসা পাওয়ার আশায় এক ভয়ংকর প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছিল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। কবিরাজি চিকিৎসার প্রলোভনে পড়ে ওই কিশোরী তার পরিবারের সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৬৬ লাখ টাকা খুইয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই-এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এই চুরির আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।
যেভাবে চলত প্রতারণা
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের এক কাপড় ব্যবসায়ীর ১৩ বছর বয়সী কন্যাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদে ফেলে ‘কবিরাজ’ পরিচয়ধারী এই চক্রটি। তারা ইমু ও টিকটক ব্যবহার করে কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। মা-বাবার ভালোবাসা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ‘কবিরাজি খরচ’ বাবদ বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে কিশোরীর মাধ্যমে ঘর থেকে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয় প্রতারকরা।
পিবিআই-এর অভিযান ও মালামাল উদ্ধার
গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে নামে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ থেকে মূলহোতা মনির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে মনিরের দেখানো স্থান থেকে মাটির নিচ থেকে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা।
পিবিআই জানায়, চক্রটি ‘কবিরাজ’ ও ‘আল্লাহর দান’ নামে ভুয়া ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কাকন রেজা, শেরপুর