ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১৪ বছর
সিলেটের রাজনীতিতে একসময় যার উপস্থিতিতে মুখর থাকত রাজপথ, সেই বিএনপিনেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ১৪ বছর পূর্ণ হলেও আজও মেলেনি তার কোনো সন্ধান। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন তিনি। এরপর থেকে তার ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো অজানা রয়ে গেছে।
ইলিয়াস আলী শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, সিলেটবাসীর কাছে ছিলেন আস্থার প্রতীক। আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে তার উত্থান ঘটে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সিলেটের বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ এলাকায় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশেষ করে টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলনে তার দৃঢ় নেতৃত্ব তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বনানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে থেকে তার ব্যবহৃত গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর দেশজুড়ে আন্দোলন-বিক্ষোভ হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পর থেকে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও সন্তানরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিটি উৎসব ও পারিবারিক মুহূর্তে তার অনুপস্থিতি তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, আমরা শুধু জানতে চাই তিনি কোথায় আছেন। একটি মানুষ এভাবে হারিয়ে যেতে পারে না।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেটের সাধারণ মানুষ এখনো বিশ্বাস করেন, তাদের প্রিয় নেতা একদিন ফিরে আসবেন। তার প্রভাব এখনও সিলেটের রাজনীতিতে বিদ্যমান।
ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতিতে তার নির্বাচনি এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তার সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ৩০ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে লুনা বলেন, মাননীয় স্পিকার আমার নির্বাচনি এলাকার সব জনগণ এবং বাংলাদেশের যখন যেখানে গিয়েছি সবার একটিই প্রশ্ন ছিল আমার কাছে, ইলিয়াস কোথায়? ইলিয়াস আলীর কোনো খবর জানেন কি না। আজকের এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমিও জানতে চাই ইলিয়াস আলী কোথায়?
বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় বিচারহীনতা থাকতে পারে না। তিনি লুনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিষয়টি বিবেচনার কথাও উল্লেখ করেন।
ইলিয়াস আলী নিখোঁজের দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার নিখোঁজ রহস্যের কোনো সমাধান হয়নি। তিনি গুম হয়েছেন নাকি হত্যাকাণ্ডের শিকার? এই প্রশ্নগুলো আজও অমীমাংসিত।

তারেক আহমদ, সিলেট (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ)