ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি-খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে শিশু শিক্ষার্থীরা
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের ১৮৪নং করিমগঞ্জ-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে পাঠদান। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ভবনে প্রতিদিন ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সর্বদা প্রাণনাশের আতঙ্কে থাকছেন।
বিদ্যালয়টি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ সয়লাব হয়ে যায়, ফলে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যেকোনো সময় ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে নরসিংদী অঞ্চলে ঘনঘন অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাস চলাকালীন মাঝেমধ্যেই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে তাদের গায়ের ওপর পড়ে। এই ভয়ের কারণে অনেক সময় অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না।
অ্যাডভোকেট মমিন মিয়া নামের এক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় বিষয়। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করানো মোটেও নিরাপদ নয়। এখানে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা ইয়াসমিন জানান, ভবনটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
রায়পুরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা করিমগঞ্জ-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের করুণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ফরহাদ আলম, নরসিংদী (শিবপুর-রায়পুরা)