সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফেরাতে পরিবারের আকুতি
সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে বাংলাদেশি মো. রনি মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
নিহত রনি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। বর্তমানে সৌদি আরবের আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে তার মরদেহ সংরক্ষিত আছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মরদেহ দেশে আনার কোনো উপায় না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। গতকাল ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মরদেহ বাংলাদেশে আনার জন্য একটি আবেদনও করেছেন নিহত রনির বড় ভাই মো. মনিরুজ্জামান।
রনির গ্রামের বাড়িতে তার মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী–সন্তানেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত এ প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
রনির বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজামান জানান, তার ছোট ভাই (রনি) গ্রামের বাড়িতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। আবার কখনও ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারির কাজে সৌদি আরবে যান। কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় একই কাজে সৌদিতে যান তিনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; ফের ওই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে মারা যান তিনি।
মনিরুজ্জামান আরও জানান, উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতেন রনি। পরে তাকে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য প্রথমে দেন পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। যাওয়ার কিছু দিনের মধ্যে আহত হয়ে ফেরত আসায় এক টাকাও দিতে পারেননি তিনি। এরপর আবারও যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা আরও দেন চার লাখ টাকা। বর্তমানে তার মরদেহ দেশে আনার জন্য, যে কোম্পানি নিয়ে গিয়েছিল তাদের সুপারভাইজারের সঙ্গে এবং যিনি সৌদি থেকে মরদেহ হস্তান্তরের দায়িত্ব নিয়েছেন মো. আফতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সাথে তাদের যোগাযোগ চলছে। পরিবারের প্রিয়জনের মরদেহের জন্য অপেক্ষার মতো কষ্টকর কিছু নেই বলেও জানান তিনি।
নিহত রনির বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম আমরা। আজ তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমরা আমাদের ছেলেকে আর জীবিত ফিরে পাব না, তবে তার মরদেহটি যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি, সেই ব্যবস্থা চাই। সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে আকুতি জানিয়েছেন তিনি। নিজ জন্মভূমিতে তাকে দাফন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য তার মা–বাবা, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান অপেক্ষায় আছে। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারে এখন অন্ধকার নেমে এসেছে। তারা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার্তা পাঠানো হবে।
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সৌদি প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ে যোগাযোগ করবেন। এ ছাড়া নিহত রনির রূহের মাগফিরাত কামনা এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

কাকন রেজা, শেরপুর