মৎস্য আহরণকারীরা কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন : প্রতিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, মৎস্য আহরণকারীদেরও এখন থেকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে। আজ বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্যজীবীদের মাঝে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হয় ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্যজীবীরাও এই বিশেষ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন। কাপ্তাই হ্রদের ঐতিহ্য ও উৎপাদনশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অতীতে এই হ্রদ থেকে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে । তাই হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। মাছের উৎপাদন নিশ্চিত করতে তিনি সকলকে তিন মাস মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যাতে মৎস্যজীবীরা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
কাপ্তাই হ্রদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হ্রদের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, পর্যটক ও স্থানীয়দের অসচেতনতায় হ্রদে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হলে এটি এক সময় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে । হ্রদকে দূষণমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রমও গ্রহণ করা হবে
চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে ৬০ মেট্রিক টনের বেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিএফডিসি। পাশাপাশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার কাপ্তাই হ্রদনির্ভর ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি হারে দুই মাসের জন্য মোট ৪০ কেজি করে মোট এক হাজার ৭৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক