শিবালয়ে বালুমহালের আধিপত্য নিয়ে আবারও গুলি
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায় যমুনার বালুমহালকে কেন্দ্র করে ফের চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (১০ মে) ভোরে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিবর্ষণ ও হুমকির ঘটনায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৬টার দিকে আলোকদিয়া খেয়াঘাটের ৭ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন যমুনা নদীতে তিনটি ইঞ্জিনচালিত কাটারযোগে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আসে। তারা সেখানে অবস্থানরত ড্রেজার শ্রমিকদের ডেকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘোষণা করে যে, ফরিদপুর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যমুনার ড্রেজিং তাদের একক নিয়ন্ত্রণে চলবে। হুমকি প্রদানের একপর্যায়ে তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত নদীপথে চলে যায়।
গত ৩ এপ্রিল এই একই বালুমহালের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ইজারাদার পক্ষের ম্যানেজার মিরাজ হোসেন নিহত হয়েছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়রা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মিরাজ হত্যার ঘটনায় কাওছার আলম নামে এক ইজারাদার মামলা করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী থেকে রাসেল নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
বর্তমান ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইকরাম কনস্ট্রাকশনের দাবি, তেওতা বালুমহালটি তাদের নামে ইজারা নেওয়া থাকলেও বর্তমানে তারা সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।
শিবালয় থানার এসআই আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ