পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে শিশুর হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন
শরীয়তপুরের জাজিরায় ফসলি জমিতে কুড়িয়ে পাওয়া পরিত্যক্ত একটি ককটেল হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মো. রাহাত (১০) নামে এক শিশুর হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার (২৯ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের চরধুপুর চর কান্দি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহত রাহাত ওই গ্রামের সামসু মাদবরের ছেলে।
জাজিরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাহাত বাড়ির পাশে বাবুর মাতবরের একটি খামারে মরিচ তুলতে যায়। সেখানে মাটির ওপরে লাল কটেপ বা পলিথিন মোড়ানো জর্দার কৌটা সদৃশ একটি পরিত্যক্ত ককটেল বোমা দেখতে পায় সে। কৌতুহলবশত অবুঝ শিশুটি ককটেলটি হাতে তুলে নিয়ে খেলাচ্ছলে নাড়াচাড়া করতে থাকে। একপর্যায়ে তীব্র শব্দে ককটেলটি হাতের মধ্যেই বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শক্তিতে মুহূর্তেই শিশুটির ডান হাতের কব্জি শরীর থেকে উড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে মাঠের ও আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রাহাতকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত সার্জারি ও জরুরি চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান।
আহত রাহাতের ছোট চাচা বাবুল মাদবর অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা এবং স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চরম বিরোধ ও মামলা-হামলা চলছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বা আতঙ্ক ছড়াতে কে বা কারা ওই ককটেল বোমা সেখানে লুকিয়ে রেখে গেছে, সেটি পুলিশ প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট তদন্ত করে বের করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। আমি নিজে হাসপাতালে গিয়ে আহত শিশুটির খোঁজ নিয়েছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে এই ককটেল রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর