নানাবাড়ি যাচ্ছিল আড়াই বছরের রুহান, পিকআপের চাপায় গেল বাবা-ছেলের প্রাণ
বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদের আনন্দে নানাবাড়ি যাচ্ছিল আড়াই বছরের শিশু রুহান। কিন্তু পিকআপের চাপায় মুহূর্তেই ম্লান হলো সব। পিকআপভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বাবা মো. জাহাঙ্গীর (৩১) ও ছেলে রুহান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মা রূপালী আক্তার।
আজ শনিবার (৩০ মে) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের আলালপুর আমতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।
রূপালী আক্তার বলেন, ময়মনসিংহ থেকে কত আনন্দ নিয়ে রওনা হইলাম বাপের বাড়ি যামু বলে। ঈদ করা হইলো না আমাদের। চোখের সামনে একটা বড় গাড়ি এসে আমাগো সিএনজিটাকে থ্যাঁতলায় দিল। আমার কোলেই বসা ছিল আমার কলিজার টুকরা রুহান, পাশে ওর বাবা। চোখের পলকে আমার কোল থেইকা ছিটকে পড়ল বাচ্চাটা। ওর বাবা ওরে জড়ায় ধরছিল, কিন্তু গাড়িটা এমনভাবে চাপ দিল যে আমার কোলের সন্তান আর স্বামী সেখানেই পিষে গেল। আল্লাহ আমারে কেন বাঁচায় রাখল, আমি এখন কারে নিয়ে বাঁচমু?
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, অটোরিকশাটি আলালপুর আমতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর ও তার কোলে থাকা আড়াই বছরের সন্তান রুহান প্রাণ হারান।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালায়। আলালপুর আমতলা এলাকায় পিকআপ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও তার সন্তান নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দুর্ঘটনা কবলিত যান দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটকে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ
তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ (সদর-মুক্তাগাছা)