কোরবানির হাটের বর্জ্য না সরানোয় ইজারাদাররা কালো তালিকাভুক্ত হবে
কোরবানির পশুর হাটের বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
আজ রোববার (৩১ মে) ডিএসসিসির মিলনায়তনে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এ কথা জানান।
আব্দুস সালাম বলেন, কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে হাটের ইজারাদাররা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ করেননি। ফলে জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশনকেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাটের সব বর্জ্য অপসারণ করতে হয়েছে। এতে সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে এবং পুরো কার্যক্রম আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
আব্দুস সালাম বলেন, ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জামানতের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ইজারাদার এর তোয়াক্কা করেন না। তাই আগামী বছর থেকে জামানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে সে যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আব্দুস সালাম আরও বলেন, নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ৫টি ওয়ার্ডে কর্পোরেশন নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম এখনও চলমান উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ডিএসসিসির কোথাও বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে নাগরিকরা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের চেষ্টা করা হবে।
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাময়িক ভোগান্তি ও ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, গত তিন দিন ধরে টানা কোরবানি, যত্রতত্র বর্জ্য ও চামড়া ফেলে রাখা, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজট এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত বর্জ্য অপসারণের কারণে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে। এজন্য তিনি নগরবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, বিগত তিন দিনে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপিসহ প্রায় ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন। এ কাজে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে।
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সহযোগিতার জন্য নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক সচেতন নাগরিক নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করেছেন এবং বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করেছেন। ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টেলিভিশনে সচেতনতামূলক প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ও ওয়ার্ডভিত্তিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়।
নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন বদ্ধপরিকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ যেকোনো নাগরিক সেবায় গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গণমাধ্যম ও নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকরা সচেতন হলে যেকোনো সমস্যার অর্ধেক সমাধান এমনিতেই হয়ে যায়, বাকি অর্ধেক সমাধান নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।

নিজস্ব প্রতিবেদক