মোহাম্মদপুরে নারীদের থেকে ছিনতাই, যেভাবে ধরা পড়ল দুই অভিযুক্ত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুই নারীর পথরোধ করে চাপাতির মুখে করা আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, চাপাতি ও ভুক্তভোগীদের কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. জুয়েল ওরফে আরিফ (৪৫) ও আনোয়ার হোসেন (২৮)।
আজ বুধবার (৩ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফজলুল করিম জানান, গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে র্যাব-১১ এর সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে দিনগত রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে দুই নারী মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডের ‘এম গলি’র একটি বাসার সামনে এসে পৌঁছান। ঠিক সে সময় একটি পিকআপ বা ট্রাকে করে অজ্ঞাতনামা ৩ জন ছিনতাইকারী এসে ধারালো চাপাতি দেখিয়ে তাদের পথরোধ করে। ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে একপর্যায়ে তারা ওই দুই নারীর ব্যবহৃত একটি ভিভো মোবাইল ফোন, দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (যার মধ্যে ছিল স্বর্ণের চেইন, ব্রেসলেট, পায়ের পায়েলে, কানের দুল ও আংটি), নগদ ৫৫ হাজার টাকা এবং তাদের পোশাক ও প্রসাধনীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় গত ১ জুন মোহাম্মদপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে উন্নত তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে আনোয়ার হোসেনকে এবং একই দিনে র্যাবের সহায়তায় জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আনোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই হওয়া দুটি ব্যাগ, কিছু পোশাক, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতি এবং একটি ট্রাক জব্দ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মো. জুয়েল ওরফে আরিফ একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় দুটি দস্যুতা, দুটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং একটি ডাকাতির মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার স্বীকার করেছে যে, তারা একটি সুসংগঠিত চক্রের সদস্য। এই চক্রটি মোহাম্মদপুরসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে বা ভোরে দলগতভাবে ছিনতাই করে থাকে। এরপর ছিনতাই করা মালামাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করে দেয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক