সোনারগাঁয়ে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উৎসবে বিপুল ভক্তের সমাগম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমে পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ ও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মহাসাধক শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান উৎসব। আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ভক্তরা এ উৎসবে অংশ নিতে বারদী আশ্রমে সমবেত হয়েছে।
আজ সকালে পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, কীর্তন, বাল্যভোগ, রাজভোগ ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় ঊষা কীর্তন। তিরোধান উৎসবকে কেন্দ্র করে বারদী এলাকায় পাঁচ দিনব্যাপী লোকজ মেলাও বসেছে, যেখানে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ করা গেছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাসাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারী ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কচুয়া (কাঁকড়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন রাম নারায়ণ ঘোষাল এবং মা কমলা দেবী। দীর্ঘ ৪০ বছর হিমালয়ে সাধনা শেষে তিনি মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেন। মানবতাকে সর্বোচ্চ ধর্ম হিসেবে ধারণ করে ১৮৬৩ সালে তিনি বারদী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে জীবনের শেষ ২৬ বছর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদীতে অবস্থান করেন। ১৬০ বছর বয়সে বাংলা ১৯ জ্যৈষ্ঠে তাঁর মহাপ্রয়াণ ঘটে। এরপর থেকেই প্রতিবছর এ দিনে তিরোধান উৎসব পালিত হয়ে আসছে।
উৎসব উপলক্ষে আশ্রম কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রভাত কীর্তন, গীতাপাঠ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা, বাল্যভোগ ও রাজভোগ বিতরণ, ভক্তিমূলক সংগীত, সন্ধ্যা আরতি, ফল ও জল প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ভক্তরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরাধনা ও প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছে।
এ ছাড়া আগত ভক্তদের জন্য বিনামূল্যে শিশু খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা, মিষ্টি, চিড়া-মুড়ি, বাতাসা, বিশুদ্ধ পানি ও শরবত বিতরণের ব্যবস্থা করেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে লোকনাথ সেবা সংঘ, সনাতন পুন্যার্থী সংঘ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সীতারাম সংঘ, শারদাঞ্জলি ফোরাম বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি সংগঠন।
বারদী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শংকর কুমার দে বলেন, তিরোধান উৎসবকে ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল ভক্ত আশ্রমে সমবেত হয়েছে। তাদের আবাসন ও খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি ও শিশুদের জন্য দুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও কাজ করছে।
সোনারগাঁ থানা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক করিম রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিবের নির্দেশনায় প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক উৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জননিরাপত্তায় কাজ করছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, আশ্রমে আগত ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আশ্রম এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)