তেঁতুলিয়া নদীর বুড়াগৌরাঙ্গ বালুমহাল ইজারা বন্ধের দাবি
তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপারের চার ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। এরইমধ্যে তীব্র ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদীকে বুড়াগৌরাঙ্গ নদ দেখিয়ে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এতে বেড়েছে ভাঙন আতঙ্ক, দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। তারা এ ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাউফলে দুটি বালুমহাল রয়েছে। একটি হলো বগা লঞ্চঘাট থেকে কারখানা লঞ্চঘাট, অপরটি হলো নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী লঞ্চঘাটে বুড়াগৌড়াঙ্গ নদের ডুবা বালুমহাল। আগামী ১১ জুন বালু মহাল দুটির প্রকাশ্য ইজারার ডাক অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।
এদিকে, নিমদী লঞ্চঘাট এলাকাকে বুড়াগৌড়াঙ্গ নদের অংশ দাবি করে বালুমহাল ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, পটুয়াখালী জেলার নদ-নদী তালিকার ২০ নম্বর নদের নাম বুড়াগৌরাঙ্গ। নদ-নদী সংক্রান্ত রেকর্ড সিএস, এসএ অনুযায়ী এ নদের দৈর্ঘ্য ৪৬ কিলোমিটার। তেঁতুলিয়া নদীর দশমিনা উপজেলার আউলিয়াপুর এলাকা শেষ সীমানা ও গলাচিপা উপজেলার শুরু থেকে বুড়াগৌরাঙ্গ নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। বাউফল উপজেলায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। নিমধী লঞ্চঘাট এলাকাকে বুড়াগৌরাঙ্গ নদের অংশ বলে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এটি তেঁতুলিয়া নদীর অংশ। ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়ায় বালুমহাল ইজারা দেওয়ার জন্য তেঁতুলিয়ার নাম পাল্টিয়ে বুড়াগৌরাঙ্গ দাবি করা একটি অপকৌশল বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, নিমদী, ধানদী, তাতেরকাঠি, ডালিমা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন তেঁতুলিয়া নদীর তীব্রভাঙনে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। হাজার হাজার একর জমি, বসভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সেই ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদীর নাম পাল্টিয়ে বালুমহাল ইজারা দিলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে। অপরিকল্পিত ইজারার কারণে জনবসতি ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক হুমকিতে পড়বে। তারা নাজিরপুর ইউনিয়নের তাতেরকাঠি থেকে কালাইয়া এবং চন্দ্রদ্বীপ খেয়াঘাট থেকে বাতির খাল পর্যন্ত বালুমহাল ইজারা না দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছে।
নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, যুগ যুগ ধরে তেঁতুলিয়ার ভাঙনে নাজিরপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মানচিত্রে নাজিরপুরের জনপদ ছোট হয়ে আসছে। বর্ষা আসার শুরুতেই ভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুমহাল ইজারা দিলে নিমদী, ধানদী, ডালিমা ও চন্দ্রদ্বীপের কিছু অংশের মানুষ ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়বে। যেকোনো মূল্যে এ ইজারা বন্ধ করতে হবে।
মো. আবুল বাশার নামে আরেক বাসিন্দা জানান, ভাঙন প্রতিরোধে মানুষ বছরের পর বছর ধরে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা ভাঙনপ্রতিরোধে প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। সেই ভাঙন থেকে বালুমহাল ইজারা দেওয়া মানে এ জনপদের মানুষকে নদীতে ফেলে দেওয়ার সমান। এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেহেতু নিমদী এলাকাসহ তেঁতুলিয়া নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হবে।
অপরদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুমহাল ইজারা না দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)