দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০ : অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর, বাদ যায়নি মসজিদও
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর ও থলিয়ারা গ্রামে দোকানের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের মিন্দালী (ছোট গোষ্ঠী) এবং বাহাদুর বাড়ির (বড় গোষ্ঠী) মধ্যে একটি দোকানের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ দোকানটি শিরু মিয়া নামে এক ব্যক্তি পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে রোববার সকালে দুই পক্ষের শত শত সমর্থক টেঁটা, বল্লম, রামদা ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার পর বিকেলে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও দুপুরের দিকে একজন আহত ব্যক্তির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়ালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শাহনেওয়াজ শাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর)