যমুনায় বাড়ছে পানি, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বর্ষণে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আর এই পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই যমুনার অরক্ষিত অঞ্চলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত তিন দিনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ভাঙন কবলিত এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাক্ষুসে নদীর গ্রাস থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে তাদের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন; অন্যদিকে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিংয়ের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার চরসলিমাবাদ গ্রামের বেশ কয়েকটি পয়েন্টেও গত কয়েকদিন ধরে তীব্র ভাঙন চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান নাজির ভাঙনের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে জানান, যমুনার প্রবল স্রোতে চোখের পলকে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। আকস্মিক এই ভাঙনের তীব্রতায় পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে; এখনই যদি কার্যকর কোনো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে উপজেলার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চিরতরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীভাঙনের এই ভয়াবহতার কারণে বিনানই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মনজুর কাদের মহাবিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা, বাঘুটিয়া কারিগরি কলেজ এবং সম্ভুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ওই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বিলীনের চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি নদীতীরবর্তী শতাধিক বসতবাড়ি ও স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, যমুনার এই চিরচেনা ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ডাম্পিংসহ নানাবিধ অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান করা হয়নি, যার ফলে প্রতি বছরই নদীপাড়ের অসহায় মানুষকে তাদের শেষ সম্বল বসতভিটা ও ফসলি জমি হারাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নদীভাঙন চিরতরে প্রতিরোধ করতে একটি স্থায়ী ও টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, চৌহালীর সলিমাবাদ এলাকার দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার জুড়ে একটি স্থায়ী ও টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় প্লানিং কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে নদীভাঙন কবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রফিক মোল্লা, সিরাজগঞ্জ (বেলকুচি-চৌহালি)