অনলাইনে প্রেম, চীন থেকে এসে বিয়ে না করেই ফিরলেন যুবক
সাত মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে সুদূর চীন থেকে এম এ হাইশান (৩৯) নামের এক যুবক কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের উত্তরপার সাঁওতা গ্রামে ছুটে আসেন। তবে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর হাইশান জানতে পারেন, সে কিশোরী। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, স্কুলছাত্রী প্রেমিকার বিয়ের বয়স হয়নি। তাই বিয়ে না করেই ফিরে যান ওই চীনা যুবক।
স্থানীয় মেম্বর, চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে প্রেমিকাকে বিয়ে না করেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন হাইশান। গতকাল বুধবার বিকেলে প্রেমিকার বাড়িতে এসেছিলেন এ চীনা যুবক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল মঞ্জু বলেন, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে বুধবার ছেলেটি ঢাকা পৌঁছলে মেয়ে ও তার স্বজনরা তাকে বিকেলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল এবং এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায় মেয়েটির বিয়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নয়। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ফের ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা সত্তোর্ধ ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, প্রেমের টানে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে চীন দেশ থেকে একজন চলে আসছে। তাঁ নাম ঠিকানা ধর্ম জানা নেই। এমন ঘটনা আগে কোনোদিন ঘটেনি। বিভিন্ন এলাকার লোকজন ছুটে আসতেছে দেখতে।
ওই কিশোরীর মা বলেন, মেয়ের বয়স হয়নি। ভুল করে বিদেশের লোককে বাড়ি নিয়ে এসেছিল। সাধ্যমতো আদর খেদমত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার, পুলিশের সহযোগিতায় ওই ছেলেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ওই কিশোরী বলেন, চীনের ওই যুবকের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাত-আট মাস আগে পরিচয় হয়। চীনের ভাষা বুঝি না। তার নাম পরিচয় জানি না। তবে সে মুসলিম। তেমন প্রেম ভালোবাসা হয়নি। তবু তিনি বিয়ের জন্যে চলে এসেছে। আমার বয়স না হওয়ায় বিয়ে হয়নি।
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন না চীনা যুবক এম এ হাইশান। তিনি বলেন, আমি চীনের গানসু থেকে এসেছি। আমি বাংলাদেশে বিয়ে করতে চাই। কিছু সমস্যার কারণে বিয়ে করতে পারছি না। আমি এখন শুধু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দরে ফিরে যেতে চাই।
হাইশান আরও বলেন, তিন মাসের সম্পর্ক। আমি চীনে ফিরে যাওয়ার পর আরও দেড়বছর সময় আছে। দেড় বছর পর আমি আবার এসে আমার প্রিয়তমাকে বিয়ে করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, সম্পর্কের জেরে এক চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছিল বিয়ের জন্য। মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ওই যুবককে ভালোভাবে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এম আর নয়ন, কুষ্টিয়া (কুমারখালী-খোকসা)