পাঁচটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি নিয়ে ২২টি তৈরি, অভিযানে বিপুল মালামাল জব্দ
মাত্র পাঁচটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি নিয়ে ২২টিরও বেশি ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগে কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীর ‘মডার্ন ড্রাগ’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে কারখানাটিতে অনুমোদনবিহীন ২২ ধরনের ওষুধ উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জুবায়ের ইসলাম মাত্র কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিলেন। এমনকি কোনো অনুমোদিত টেকনিশিয়ান ছাড়াই এখানে ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কুমিল্লার অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার জানান, জব্দ করা ২২ ধরনের ওষুধের কোনো অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এখানে নামি কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের ওষুধও জালিয়াতি করে তৈরি করা হতো। বিশেষ করে শিশুদের জন্য উৎপাদিত কিছু ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অভিযানে অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সময় কারখানার পাশের আরেকটি গোপন গোডাউন থেকেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান জানান, কারখানাটির বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান হাসান মাহমুদ, এনএসআই কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা