কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
ভোলায় এক কোটি টাকার মাছ জব্দ করে গায়েব করার ঘটনায় কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার (২২ জুন) হাইকোর্ট ভোলার চরফ্যাশনের সাম্রাজ মাছঘাটের ১০ জন মাছ ব্যবসায়ীর একটি রিট পিটিশন দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যবসায়ীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
ব্যবসায়ীদের আইনজীবী আরও জানান, চলতি বছরের ১২ মে কোস্টগার্ডসহ সরকারি অন্য কর্মকর্তারা যে মাছ আটক করেছে তা কেন তদন্তে দেওয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করে হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এজন্য একজন অতিরিক্ত জেলা জজের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, এই তিন জনকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া। তাদের সহযোগিতা করেন আইনজীবী রোকনুজ্জামান ও মোর্শেদুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।
কোস্টগার্ডের এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও খামখেয়ালী দাবি করে রিটকারী ব্যবসায়ীরা জানান, এর ফলে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক কষ্টের মুখে পড়েছেন। রিট আবেদনে তারা মাছের মূল্যের সঙ্গে ২০ শতাংশ সুদসহ মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই চরফ্যাশনের সাম্রাজ মাছ ঘাটের ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। তারা বলেন, আমরা সরকারের আইন মেনেই ব্যবসা করছি। তারপরও কেন হয়রানির শিকার হতে হবে। এসব বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ না পেলে আমরা আন্দোলনে নামব।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, আমরা বিচার চেয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বহু স্থানে লিখিত আবেদন করেছি। অথচ কোনো প্রতিকার পাইনি। কোস্টগার্ড আমাদের বের করে দিয়েছে। মাছের কাছেও যেতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, আমাদের মারধর পর্যন্ত করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।
অপরদিকে চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা খোঁজখবর নিয়ে মেঘনা নদীর মাছ বলে সার্টিফাই করি। এরপরেও ভোলার কোস্টগার্ড কীভাবে সমুদ্রের মাছ বলে চিহ্নিত করেছে এটার জবাব তারাই ভালো দিতে পারবেন।

আফজাল হোসেন, ভোলা