সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ নয়জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে বুধবার দিনগত রাতে তাদের ভারতে ফিরে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল বুধবার ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা নয় ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর আদাতলা সীমান্তে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে বুধবার (২৪ জুন) বেলা ১২টার দিকে জানানো হয়, বিকেলের দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করা নয়জনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পরে বিকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টার প্রতিবাদে এবং পুশইন ঠেকাতে সন্ধ্যার দিকে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের কোন আগ্রহ দেখানো হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে কোম্পানি কমান্ডার বা ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোন পতাকা বৈঠক হয়নি।
ভারতীয় অংশে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের অংশে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নো ম্যানস ল্যান্ডে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ তপ্ত রোদের মধ্যে দিনভর মানবেতর জীবনযাপন করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিবি-বিএসএফ কোন পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করা ৯ জন দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে।
নওগাঁ সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর বিএসএফ তাদের তিনটি সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে সীমান্ত এলাকায় ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করে। গ্রামবাসী জানান, গতকাল বুধবার রাত দশটার পরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের সীমান্তের সার্চলাইটগুলো অন করলে সেখানে ওই ৯ জনকে আর নোম্যানস ল্যান্ডে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে রাতের আঁধারে তাদেরকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ-১৬ বিজিবি থেকে বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, নো ম্যানস ল্যান্ডের ভারতীয় অংশে অবস্থান করা ৯ জন আজ সকাল থেকে সেখানে আর দেখা যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিজিবি কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ বুধবার দিনগত রাতে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। পুশইন ও যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসে ৫ জুন সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্ত, ৮ জুন পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত এবং সর্বশেষ ২৪ জুন সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে অর্ধশতাধিক নারী, শিশু ও পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কিন্তু বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের তিনটি পুশইন মিশন ব্যর্থ হয়।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ