রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ, উচ্চ আদালতে যাবে আসামিপক্ষ
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে ছয়টি গুলি করা, নাদিম ও মায়া ইসলাম নামে দুজনকে হত্যাসহ তিনটি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুরে রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদেরকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে ছয়টি গুলি করা, নাদিম ও মায়া ইসলাম নামে দুজনকে হত্যাসহ তিনটি অভিযোগে আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যৃদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ ছাড়া একজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি বেতার বার্তার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঠেকানোর জন্য ছাত্র-জনতার পায়ে গুলি করতে অধীনদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান। তার মৌখিক নির্দেশনা এমন থাকলেও বাস্তবে বুকে ও মাথায় গুলি করা হয়েছে। অর্থাৎ ১৯ জুলাই রামপুরায় গুলি চালিয়ে এভাবে হত্যাকাণ্ড চালান মামলার আসামিরা। এতে প্রাণ হারান মায়া ইসলাম ও নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে নির্বিচারে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছিলেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। স্বীকারোক্তি অনুযায়ীই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়। এজন্য তিনটি অভিযোগের একটিতে তাকে সাজা দেওয়া হয়। বাকি দুটিতে খালাস পান তিনি।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটি যথার্থ রায় হয়েছে। আমরা এ রায়ে আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এ রায়ের মধ্য দিয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অপরদিকে রায়ে সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। তিনি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের হয়ে আইনি লড়াই করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন বলেন, চঞ্চল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি এক্সট্রা-জুডিসিয়াল কনফেশন এসেছে। আমরা বারবার ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছি, বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হোক, কিন্তু তা করা হয়নি। অতএব আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এ কারণেই উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে যাব।
সারওয়ার জাহান নিপ্পন বলেন, আমার ক্লায়েন্টের (চঞ্চল) কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। ১৯ জুলাই তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন সেন্টারে দায়িত্বে ছিলেন। সিডিআরে সেটি উল্লেখ রয়েছে। হঠাৎ একটি ভিডিওর ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা সমীচীন হয়নি বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ কারণেই আপিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক