মাদারীপুরে ১ কোটি সাড়ে ১৯ লাখ টাকার নকল সিগারেট জব্দ
মাদারীপুর সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা এই তথ্য তুলে ধরেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় ট্যাক্স (ভ্যাট) বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বুধবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার একটি বিশেষ মোবাইল টিম মাদারীপুর সদর উপজেলার মোবারকদি এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় ভৈরব কিশোরগঞ্জের ‘গোলাম ফেরদৌস সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটর’ থেকে আসা মাদারীপুরগামী একটি সন্দেহভাজন কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে ওই কাভার্ড ভ্যান থেকে ১১০ কার্টনে ভর্তি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ১১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনার সরাসরি নেতৃত্বে এই সফল অভিযান পরিচালনা করেন সদর থানার এসআই জিয়ারুল ও এএসআই মনোয়ারসহ মোবাইল টিমের সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, জব্দকৃত এসব নকল সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে জাল ও নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সরকারকে প্রায় সাড়ে ৫৩ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব (ট্যাক্স) ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছিল। সব মিলিয়ে জব্দকৃত পণ্যের প্রকৃত আর্থিক মূল্য ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি সাড়ে ১৯ লাখ টাকা। এই জালিয়াতির অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করার পাশাপাশি তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ ব্রাহ্মণদি গ্রামের আদেল উদ্দিন মিয়ার ছেলে মো. আতাহার মিয়া (৬৫), কিশোরগঞ্জের লুকমারখার গ্রামের মুসিদ মিয়ার ছেলে কাভার্ড ভ্যান চালক মো. নাদিম মিয়া এবং রাজশাহীর কাঁঠালবাড়ির সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল রানা (৪৫)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট উদ্ধার ও জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা এবং এর পেছনে অন্য কারা জড়িত রয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর