ওয়ার্কশপে হাত হারানো কিশোর নাহিদ পেল ৩০ লাখ টাকা
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কিশোর নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন আদালতে শিশুর পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক।
পরে শুনানি শেষে আইনজীবী ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, আজকে দেওয়া অর্থসহ মোট ত্রিশ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নাঈম হাসানের বয়স ১০ বছর। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতা ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার হোসেন কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। ওই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই মাসখানেক আগে তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হয়।
পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিশুটির বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে শিশুটিকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা নিজ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান করতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রুলের ওপর ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর শুনানি শেষ হয়। এরপর, পরের বছরের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন।
পরে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে ১৫ লাখ টাকা একই বছরের এপ্রিল মাসে এবং বাকি অর্থ ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি এফডিআর করে মোট ত্রিশ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। শিশুটির এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওয়ার্কশপের মালিককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। পরে মালিকপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক