অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির মামলায় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৫ জন কারাগারে
দিনাজপুরে এক কৃষককে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিরা হলেন—যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, হাসিন ইশরাক মিম, আজমির হোসেন ওরফে প্রেম, সাজেদুল মিনহাজ ও মোহাম্মদ হৃদয়।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, সদর উপজেলার খোশালপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রোববার রাতে শহরের গোপালগঞ্জ পাঁচমাইল এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় অপহরণের একটি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করে পুলিশ এবং তিনজনকে আটক করে। এরপর থানায় নেওয়ার সময় আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, কৃষক আব্দুস সামাদকে অপহরণের পর মারপিট করে তার মোবাইল থেকে ছেলেকে ফোন দিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এরপর আব্দুস সামাদের ছেলে মামুন অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করলে অভিযান চালিয়ে ভিকটিম আব্দুস সামাদকে উদ্ধার এবং পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ মুন দাবি করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তারা। তারা কোনো অপহরণ ও চাঁদাবাজি বা মুক্তপণ দাবি করেননি। তাই এনসিপির নেতা-কর্মীরা রাতে কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করলেও তাদের ছাড়েনি পুলিশ।
এ বিষয়ে এনসিপির দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. শামসুল মুক্তাদির বলেন, যুবশক্তি এনসিপির একটি অঙ্গ সংগঠন এবং এর সব কার্যক্রম কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন। জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো নির্দেশনা বা এখতিয়ার নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কার ও দুঃখজনক। এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি।

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর
মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)