ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২২ কিলোমিটার যানজট
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড গোলচত্বরে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজ, মহাসড়কের বড় বড় গর্ত, দুর্ঘটনা ও বিকল পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ যানজট আজ বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, পরিবহণ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ভারি বৃষ্টির মধ্যে সরাইল উপজেলার বৈশামুড়া এলাকায় একটি পণ্যবাহী লরি ও একটি কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নিলেও এর আগেই মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর রাতভর বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গর্তগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
আজ বুধবার সকাল ৬টার দিকে শাহবাজপুর সেতু ও ইসলামাবাদ এলাকায় আরও দুটি পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সকাল থেকেই সড়কের শান্তিনগর, বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া, শাহবাজপুর হয়ে বিজয়নগরের বুধন্তী পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের সারি ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বরোড গোলচত্বরে চারটি দিকের মধ্যে ঢাকা থেকে সিলেটমুখী মাত্র একটি লেন চালু রয়েছে। সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লামুখী দুটি লেন বন্ধ রেখে উন্নয়নকাজ চলায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কুমিল্লামুখী লেনে বৃষ্টির পানিতে গর্ত ডুবে থাকায় কিছুক্ষণ পরপর ভারী যানবাহন আটকে পড়ছে। ফলে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরগামী সুহিলপুর এলাকাতেও।
সিলেট থেকে নেত্রকোনাগামী ট্রাকচালক নয়ন খান বলেন, বুধন্তী থেকে কুট্টাপাড়া পর্যন্ত আসতে আমার আড়াই ঘণ্টা লেগেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এ পথ ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই অতিক্রম করা যায়।
সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, বিশ্বরোড মোড়ের দক্ষিণ পাশে সড়কের গর্তে পণ্যবাহী যানবাহন বারবার আটকে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বৈশামুড়া এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত প্রায় ৫০ টন ওজনের লরিটি সরাতে সময় লাগায় পরিস্থিতির অবনতি হয়। তিনি বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া