আদালতের মালখানা ও থানায় জব্দ করা মালামাল সংরক্ষণে কমিটি গঠনের নির্দেশ
সারা দেশে আদালতের মালখানা এবং থানায় থাকা জব্দকরা গাড়িসহ বিভিন্ন নথি, মালামাল কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যায়, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃতত্বে ১২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিকে আাগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিটের পর আদালতের পূর্বের নির্দেশনার আলোকে পুলিশ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
শুনানি শেষে মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের মালখানা ও থানায় থাকা জব্দ মালামাল কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে বুধবার সেই প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হলে আদালত এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রধান হবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন—পুলিশ মহাপরিদর্শকের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিনিধি, কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দুজন প্রতিনিধি, রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ও প্রতিনিধি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, অধস্তন আদালতের একজন প্রতিনিধি এবং ঢাকা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির আরও জানান, কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের মালখানা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া জব্দ আলামতের বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দেশের সব থানার উদ্দেশে সার্কুলার জারি করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে এবং অধস্তন আদালতের উদ্দেশে সার্কুলার জারি করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি সারা দেশে থানায় ও আদালতে মালখানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মামলার আলামতের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পুলিশপ্রধানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালের ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী সারা দেশের মালখানা ব্যবস্থাপনায় সরকারের অবহেলাকে অবৈধ ঘোষণা চেয়ে একটি রিট আবেদন করেন।
সারা দেশের বিভিন্ন মালখানাগুলো কোটি কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি ও অন্যান্য আটক জিনিসপত্র অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে। এসব রিপোর্টগুলো এবং ঢাকার ১০টি থানার মালখানার ছবি অত্র রিট আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা হয়। আদালতের কাছে অত্র রিটের বাদী পক্ষ মালখানা ব্যবস্থাপনায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আদেশের প্রার্থনা করেন।
রিট আবেদনকারীরা হলেন মোহাম্মদ নোয়াব আলী, মো. মুজাহেদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, জি এম মুজাহিদুর রহমান ও ইমরুল কায়েস। তারা সবাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ডিএমপি কমিশনারকে বিবাদী করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক