বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার হয়নি মালামাল
জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এদের মধ্যে গৃহকর্মী নিলুফা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। গত ৩০ জুন বিকেলে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল। রাতে ফিরে তিনি বাসার দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ অর্থ, একটি হীরার আংটি, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকা। ঘটনার পরের দিন ১ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেন। এরপর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে গত ৩ জুলাই আদালতে সোপর্দ করে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
পুলিশ জানায়, তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চান মিয়া ওরফে কালাচান (৫০), মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২) ও সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়ার হাওয়া বেগম (৩০)। এরপর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে রিমান্ড আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। আসামি নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে চোরাই মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার বাদী এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বলেন- স্যারদের বাসায় চুরি হওয়ার দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ কোনো ফলাফল পাইনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড শেষে আজ রোববার (১২ জুলাই) আসামিদের আদালতে হাজির করেছেন। আসামিরা সবাই ধরা পড়েছে। চুরির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতাও অনেকটা স্পষ্ট। তার পরও চোরাই মালামাল উদ্ধার না হওয়া পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং গাফিলতি। আমি দ্রুত মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাগ জানান, রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আবারও রিমান্ড আবেদন করা হবে। মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর