কপোতাক্ষে সাগরদাঁড়ির সাঁকো ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
যশোরের কেশবপুর ও সাতক্ষীরার শার্শাকে সংযোগকারী কপোতাক্ষ নদের ওপর সাগরদাঁড়ির প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ কাঠ ও বাঁশের সাঁকোটি শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে ধসে পড়েছে। এতে দুই পাড়ের প্রায় ২০টি গ্রামের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের মধুমেলাকে সামনে রেখে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০০টি বাঁশ ব্যবহার করে সাঁকোটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে সাঁকোর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা জমলেও তা অপসারণে সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক কোন্দল ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগও রয়েছে।
সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস এবং আবু শরাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ওপারের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
সাগরদাঁড়ী বাজার কমিটির সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) সুভাষ দেবনাথের কাছে বর্ষা মৌসুমে আগে থেকে কচুরিপানা সরানোর প্রস্তুতি না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, শনিবার সকালে তিনি নিজ উদ্যোগে মাঝি ও জেলেদের নিয়ে কচুরিপানা সরাতে গেলে একটি মহল তাদের নিরুৎসাহিত করে ফিরিয়ে দেয়।
তবে তদারকির অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আকবার আলী বলেন, কচুরিপানা অপসারণের জন্য লোকবল জোগাড়ের চেষ্টা চলছিল, কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরদিন কাজ করার সিদ্ধান্ত থাকলেও রাতেই সাঁকোটি ধসে পড়ে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন, কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জেলা প্রশাসকের কাছে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সাগরদাঁড়ি ঘাটটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)