শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের এলোপাতাড়ি কোপ, চার আঙুল বিচ্ছিন্ন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা নামে এক স্কুলশিক্ষিকাকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছেন এক ছাত্রীর মা। হামলায় ওই শিক্ষিকার মাথায় ৪টি কোপের আঘাত লেগেছে এবং কোপ ঠেকাতে গিয়ে হাতের ৪টি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন : শিশুর পা মোচড় দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, ২ জন আটক হলেও চাচি পলাতক
গত সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নারীর নাম প্রিয়া বেগম (২৫)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী সিঁথি সীমিতা (২৮) শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাচর এলাকার ইতালি প্রবাসী মুরাদ মিয়ার স্ত্রী এবং শিবপুর বিএমএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গৃহশিক্ষক হিসেবেও গ্রামের ছেলে-মেয়েদের পড়াতেন।
আরও পড়ুন : খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, মৃত্যুঝুঁকিতে বিদ্যালয়ের ১০৭ শিশু
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো প্রিয়া বেগমের মেয়ে সাফা মনিকে (৪) পড়াতে তাদের বাসায় যান শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা। এ সময় তিনি প্রিয়া বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া থাকা ১ হাজার ৫০০ টাকা চান। পড়া শেষ করে চলে যাওয়ার পর নিজের ফেলে আসা ছাতা আনতে শিক্ষিকা আবারও ওই বাসায় গেলে ক্ষুব্ধ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে তার ওপর আচমকা হামলা চালান।
শিক্ষিকার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে আটকে রেখে ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম আগেও এই ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছেন।
আরও পড়ুন : ছাত্রদলনেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, প্রতিদিনের মতো ভাবি পড়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে হঠাৎ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আরও পড়ুন : শিশুর পা মোচড় দেওয়ার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব