দেশীয় সুতা ও বস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার : মন্ত্রী
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশীয় সুতা ও তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের বস্ত্রশিল্পকে সুরক্ষা দিতে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, “দেশীয় সুতা ও তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড়ের পুনরুজ্জীবন’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় সুতা কাটা, ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন এবং এর চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশীয় সুতা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার ‘কুমিল্লার খাদি শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে খাদি পল্লী স্থাপন’ এবং ‘জামালপুরের নকশি শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নকশি পল্লী স্থাপন’ শীর্ষক দুটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অননুমোদিত প্রকল্প তালিকার গ্রিন পেজে এ দুটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বস্ত্র উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকল পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলের মধ্যে ১৫টি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারদের কাছে চারটি মিল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে দুটি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া লিজ পদ্ধতিতে আরও দুটি মিল পরিচালনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট মিলগুলোকে পিপিপি কাঠামোর আওতায় আনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিটিএমসি নিয়ন্ত্রিত চিত্তরঞ্জন কটন মিলসের জায়গায় প্রস্তাবিত টেক্সটাইল ভিলেজের ২২টি শিল্প প্লটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্লটগুলোতে ইতোমধ্যে বস্ত্রশিল্প স্থাপন করেছে এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।
দেশীয় সুতা ও বস্ত্রশিল্প সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অধীনে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বেসিক সেন্টারে পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট ও দুটি মার্কেট প্রমোশন সেন্টার স্থাপনের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প, জামদানি পল্লী প্রকল্প, ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং মসলিন সুতা প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়ন আরও জোরদার হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)