‘পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসচেতনভাবে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে ড্রেন, খাল ও জলাধার ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পরিচ্ছন্নতাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মোতাবেক বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন-এর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করতে সংগঠনটির কার্যক্রম ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে দুই সিটি কর্পোরেশন ও বিডি ক্লিনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য চারা সরবরাহ করা হবে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তনে সময় লাগলেও ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
মীর শাহে আলম এ সময় ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. শাকিলা নার্গিস খানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি গবেষক দলকে ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তরের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন-এর ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল। বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক চম্পা আক্তার সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা আকবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাকিলা নার্গিস খান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ) পরিমল সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: প্রতিমন্ত্রী