ফোনে মিলছিল না সাড়া, কক্ষে গিয়ে এসআইয়ের মরদেহ পেলেন সহকর্মীরা
কয়েক ঘণ্টা ধরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মিলছিল না। পরবর্তীতে উদ্বিগ্ন সহকর্মীরা সরকারি কোয়ার্টারের কক্ষে গিয়ে দেখেন, বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুল হক (৫০)। সেখান থেকে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার সরকারি কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, রাতের কোনো একসময় স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।
নিহত মো. আজিজুল হক লোহাগাড়া থানায় উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া এলাকায়। তিনি প্রয়াত আনোয়ারুল হকের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩২ বছরের সুদীর্ঘ চাকরিজীবনে আজিজুল হক অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই স্ত্রীর স্বামী ছিলেন। তার প্রথম সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তিনি স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে মো. আজিজুল হক বুকে ব্যথা, ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা অনুযায়ী এটি স্ট্রোকজনিত বা একটি স্বাভাবিক মৃত্যু। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার প্রথম জানাজা লোহাগাড়ায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম