সরকার চায় শেখ হাসিনা ফিরে আসুক : প্রতিমন্ত্রী
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পাশের দেশে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে নির্লজ্জভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক। আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ, জুলাই বিপ্লব ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাংলাদেশে আর কারও তাবেদারি চলবে না, কারও খবরদারি চলবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, নতুন বাংলাদেশ চলবে একটি নীতির ওপর। আর সেটি হচ্ছে—সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, কে এক দফার ঘোষণা দিয়েছে তা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সুযোগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরে আসার হুংকার দিচ্ছে। সরকার চায় শেখ হাসিনা ফিরে আসুক। গত ১৭ বছরে এবং জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যত হত্যাকাণ্ড তিনি সংঘটিত করেছেন তার বিচারের মুখোমুখি হতে শেখ হাসিনাকে ফেরত আসতে হবে। তাদের মতো কোনো ক্যাঙ্গারু কোর্টে, কোনো বিশেষ আদালতে শেখ হাসিনার বিচার হবে না, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণ। এই গণঅভ্যুত্থানের দাবিদার কিন্তু আমি, আপনি বা মঞ্চে দাঁড়ানো কেউ না। যেদিন মনে করেছে তারা—আর এ নির্যাতন নয়, আর এ দুঃশাসন নয়, আর এ স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে থাকা নয়, আর নয় কোনো পার্শ্ববর্তী দেশের তাবেদারি করা; সেদিনই জুলাই অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ফলাফল এসেছে। এই জিনিসটা আমাদের অনুধাবন করতে হবে। কারণ জুলাই-আগস্টে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা পঙ্গু হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন—একই সঙ্গে বিগত ১৭ বছরে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে, বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যত লোক নির্যাতন, হামলা-মামলা, গুম, খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি চরম অবিচার করা হবে; বাংলাদেশের প্রতি চরম অবিচার করা হবে—যদি আমরা এটা অস্বীকার করি।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, শেখ হাসিনা যদি ধারণা করেন—আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে, নিজের দলের নেতা-কর্মীকে না বলে পালিয়ে গেছেন—এই নেতা-কর্মী, জনগণ আবার আপনাদের ডাকে মাঠে নামবে—এটা বোকার স্বর্গরাজ্যে বাস করা ছাড়া অন্য কিছু না।
আলোচনাসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আল ফোরকান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিক আহমদ, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মুস্তফা নঈম, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার।
মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ।
এ সময় প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা ও সদস্যরাসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম