সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত, উত্তপ্ত ববি
বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত (২১) নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তার মৃত্যুর খবরে রোববার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত ও পরে আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে দফায় দফায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় নিরাপদ মহাসড়কসহ চার দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
নিহত ইয়াসিন আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
গতকাল রোববার বিকেলে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ইয়াসিন। দুর্ঘটনার পর তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইয়াসিনকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য দুর্ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে ঢাকায় নেওয়ার সময় রোববার দিনগত রাত সোয়া ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সহপাঠীরা জানান, দুর্ঘটনার পর পরই ইয়াসিনের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছান। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে করে ইয়াসিনকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ইয়াসিনের সহপাঠী মো. রাজিব বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়ার পর একাধিকবার প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার স্যারকে ফোন করেছি। রেজিস্ট্রার স্যার আমাকে বলেছেন, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করছে। কিন্তু এর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর প্রশাসন হাসপাতালে যায়। আমার ভাইয়ের জন্য বারবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কথা বলার পরও তারা সেটির ব্যবস্থা করতে পারেনি। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর দায় এই প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।’
আবু বক্কর নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি নিজে উপাচার্য স্যারকে ফোন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বলেছি। কিন্তু আমাদের দুঃখ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পারলেও আমাদের প্রশাসন সেটা করতে পারেনি।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বছির প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যে ক্ষতি হয়ে গেছে, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। এটার ব্যর্থতা, দায়—যাই বলেন, সবই আমাদের।’
এদিকে দুর্ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা কেন সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি, সে বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আশিকুর রহমান বলেন, ‘এক মাস ধরে আমাদের প্রক্টরিয়াল বডির মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। আমি আমার জায়গা থেকে সময়মতো গিয়েছি।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আর রশিদ বলেন, ‘রাস্তার জ্যাম থাকায় আমরা সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারিনি। আর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের যে বিষয়, সেটা তখন আমার মাথায় ছিল না।’
ইয়াসিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ও শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দুর্ঘটনার মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা ও পরিবহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর জরুরি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল