চাঁদপুরে ফের চালু হচ্ছে ২ টাকার স্বাস্থ্যসেবা
একসময় মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতেন চাঁদপুরের খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সেই সেবা দিয়ে আসা চাঁদপুর পৌরসভার পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয়টি চিকিৎসক সংকটে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বর্তমানে চিকিৎসালয়টির সংস্কারকাজ চলছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক নিয়োগ সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক।
শহরের পুরানবাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ছিল ভরসার জায়গা। বিশেষ করে চরাঞ্চল, নদী তীরবর্তী এলাকা এবং পুরানবাজার পৌরসভার আশপাশের দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ নামমাত্র মূল্যে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে আসছিলেন।
জানা যায়, ১৯২০ সালে পৌরসভা পুরানবাজার এলাকায় এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও দরিদ্র মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় চিকিৎসালয়টির বয়স ১০৫ বছরে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবন ও অবকাঠামোর কারণে বর্তমানে এটি সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
গত বছরের আগস্ট মাসে চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেকেই চিকিৎসালয়টি খোলা আছে মনে করে এসে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যায়। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও আশপাশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিল বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ।
চিকিৎসালয়টি বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এটি পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হয়। তাদের দাবি, বর্তমান সময়ে স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগটি দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয়টি পরিদর্শন করেন পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনসহ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে চিকিৎসালয়টির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন এবং চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন পৌর প্রশাসক।
পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ভবনটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসক পাওয়া গেলেই চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল খান জানান, হঠাৎ করে চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলসহ আশপাশের গরিব রোগীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। বন্ধ হওয়ার পর অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে গেছে। দরিদ্র মানুষের জন্য এই চিকিৎসালয়টি ছিল আশ্রয়ের মতো। এখান থেকে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে অনেক অসহায় মানুষ উপকৃত হতো।
দুলাল খান আরও জানান, দীর্ঘদিন পর পৌরসভা নতুন করে চিকিৎসালয়টি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় মানুষ খুশি। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হলে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে দাতব্য চিকিৎসালয়টি সুদীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। মাঝখানে কিছু সমস্যার কারণে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরানবাজার এলাকার পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডের পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষও যাতে এখান থেকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পেতে পারে, সে লক্ষ্যেই চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসালয়ের জন্য ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ভবনের সংস্কারকাজ সম্পন্ন এবং চিকিৎসক নিয়োগ হলেই সরাসরি চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।
পৌর প্রশাসক আরও জানান, পুরোনো ভবনটিকে ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর