ভেঙে পড়েছে রাবির কৃষ্ণচূড়া গাছ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কৃষ্ণচূড়া গাছটি আজ আর দাঁড়িয়ে নেই। ছত্রাক ও উইপোকার আক্রমণে ভেতর থেকে অন্তসারশূন্য হয়ে ভেঙে পড়েছে এই গাছটি। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে এসেছে একরাশ শূন্যতা ও বিষাদ। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের সামনের এ গাছটি ভেঙে পড়ে।
গাছটির গোড়া থেকে শুরু করে কাণ্ডের বিভিন্ন অংশে পোকার গভীর ক্ষত রয়েছে। কাণ্ডের ভেতরের বড় অংশ ফাঁপা হয়ে গেছে। ছত্রাক, উইপোকা ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার দীর্ঘদিনের আক্রমণেই যে এই বিশাল বৃক্ষটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তা গাছটির ভাঙা অংশ দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৫৪ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট নিজামুদ্দিন নামের এক কর্মচারী এই কৃষ্ণচূড়া গাছটি রোপণ করেছিলেন।
ভেঙেপড়া এই কৃষ্ণচূড়া গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অসংখ্য স্মৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছটি ভেঙে পড়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা আবেগঘন পোস্ট দিয়ে স্মৃতিচারণা শুরু করেন। ক্যাম্পাসের পুরোনো গাছগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যে গভীর আবেগ জড়িয়ে থাকে, তা যেন নতুন করে ফুটে উঠেছে তাদের কথায়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া হক মিথি বলেন, ‘গাছটির সঙ্গে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর বিভিন্ন স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এদিক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এখন গাছটার এমন করুণ অবস্থা দেখে সত্যিই খুব খারাপ লাগবে।’
আখতারুজ্জামান রিসাত নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, একটা গাছ, কৃষ্ণচূড়া। তিন-চার বছর হলো ওদিক দিয়েই যাওয়া-আসা করি। বারবার তাকাই, ফুল ফুটলে দূর থেকে দেখি। মাঝেমধ্যে ছবি-টবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়াতাম। আর ভাবতাম, বহু বছর পর ক্যাম্পাসে এলেও যেন গাছটি থাকে। একাকী তার নিচে দাঁড়িয়ে দু-চারটি স্মৃতিচারণ করা যাবে। যাক, আপাতত ভালো থেক ফুল।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. এম. মনজুর হোসেন জানান, পুরোনো বড় গাছ একটি ক্যাম্পাসের অমূল্য পরিবেশগত সম্পদ। এসব গাছ শুধু ছায়াই দেয় না, ক্যাম্পাসের মাইক্রো-ক্লাইমেট বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পাখিদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ বিষয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ.এইচ.এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, গাছটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকেই লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘদিনের গাছটির মূল দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিবেশ ও পরিচর্যার ওপর কৃষ্ণচূড়া গাছের আয়ু অনেকটাই নির্ভর করে। অনুকূল পরিবেশে এবং কাণ্ডে পোকামাকড়ের আক্রমণ না হলে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ শতাধিক বছর, এমনকি প্রায় ২০০ বছর পর্যন্তও বেঁচে থাকতে পারে।

আবু ছালেহ শোয়েব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়