খাগড়াছড়িতে নেমে গেছে পানি, দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
এক মাসের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো পাহাড়ি ঢল ও অতি ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল। ঢলের পানি নেমে যাওয়ার পর সেখানে ফুটে উঠেছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র, যা দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদ। উপজেলার গ্রামগুলোতে অসংখ্য মাটির ঘর ধসে পড়েছে, সড়ক তছনছ হয়েছে এবং বসতবাড়িতে ছড়িয়ে রয়েছে কাদা ও নষ্ট হওয়া আসবাবপত্র। জামতলী ও তার আশপাশের উঁচু এলাকাগুলোতেও শুক্রবার রাতের হঠাৎ ঢলে পানির তোড়ে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের দৈনন্দিন রসদ ভেসে গেছে।
বন্যার তাণ্ডবে নিঃস্ব হয়েছেন স্থানীয় অনেক প্রান্তিক মানুষ ও ছোট উদ্যোক্তারা। এক নারী উদ্যোক্তা ঋণ ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ধারদেনা করে দেড় হাজার সোনালী মুরগির একটি খামার গড়ে তুলেছিলেন, যা আগামী মাসেই বিক্রির উপযুক্ত হতো। কিন্তু বন্যায় খামারের সব মুরগী মারা যাওয়ায় তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে দুর্যোগের চার দিন পার হয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করেছেন যে তারা এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা পাননি।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে জামতলী এলাকাতেই প্রায় শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণার কথা জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমানে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তা যথাযথভাবে বিতরণ করা হবে।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি