বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে অনশনে ববির শতাধিক শিক্ষার্থী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে গেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সামনে এই অনশন কর্মসূচি শুরু করে তারা। এর আগে সকাল থেকেই একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের জন্য সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় অনশনে বসার ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। পাশাপাশি পক্ষপাতমূলক আচরণ, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে বিভাগটির যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ সময়ে মাত্র দুটি ব্যাচের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দাবি বর্তমান ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ এবং বিভাগ থেকে অপসারণ। গতকাল আমরা উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, আজ দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে অপসারণ করা না হলে আমরা অনশনে বসব। কিন্তু উপাচার্যের দপ্তরে কয়েক দফা আলোচনা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছি। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।’
২০১৭ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এখনও তিনি ওই দায়িত্বে রয়েছেন।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল