এবার নরসিংদীর মাটিতে চায়ের স্বপ্ন
পাহাড়ের টিলা আর লাল মাটির জমি। সারি সারি সবুজ চা গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এ যেন সিলেট কিংবা চট্টগ্রামের কোনো চা-বাগান। কিন্তু না, এ দৃশ্য নরসিংদীর শিবপুরের। নরসিংদীর মাটিতে চা- শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু হয়েছে শিবপুরে। উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের শ্রীফুলিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় প্রায় আধা একর জমিতে দুই হাজার চা গাছ লাগিয়েছেন উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ। সফল হলে নরসিংদীর পতিত জমিতে চা চাষের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে- এমনটাই আশা তার।
২০২৪ সালে চট্টগ্রামের একটি চা-বাগান থেকে চায়ের চারা সংগ্রহ করেন আব্দুল লতিফ। এরপর শিবপুরের আধা একর জমিতে লাগান প্রায় দুই হাজার চারা। বাগানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের চা গাছ। এর মধ্যে রয়েছে বিটি-১, বিটি-২, বিটি-৬সহ চীনা জাতের চা গাছও।
চা চাষের জন্য যেমন পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন, তেমনি গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলেও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আর এ কারণেই টিলা ও লাল মাটির এ এলাকাকে চা চাষের জন্য বেছে নিয়েছেন উদ্যোক্তা। চারা রোপণের পর থেকেই চলছে নিয়মিত পরিচর্যা। আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগসহ নানা কাজে সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন তিনজন কর্মচারী। সকাল থেকে সন্ধ্যা- সবুজ চা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।
পরিচর্যাকারী ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, চা গাছ লাগানোর পর নিয়মিত যত্ন নিতে হয়। সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হয়ে উঠছে। একটি চা-বাগান বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যেতে প্রায় চার বছর সময় লাগে। এরপরই পাওয়া যাবে মানসম্মত চা।
উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ বলেন, নরসিংদীর মাটিতে চা চাষ করা সম্ভব কি না, সেটি দেখার জন্যই মূলত পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছি। চট্টগ্রাম থেকে চায়ের চারা এনে এখানে রোপণ করেছি। নিয়মিত পরিচর্যা করছি, গাছগুলোও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। আশা করছি, চার বছর পর বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন করতে পারব।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজিজুল হক বলেন, শিবপুর, বেলাবো ও রায়পুরার মাটি খুবই উন্নতমানের। এখানে ফসল খুব চমৎকার ফলে। তাই আমরা আশা করছি, চা চাষও বেশ সফল হবে। এখান থেকে উৎপাদিত চায়ের মান ভালো হলে বড় পরিসরে চাষ করার চিন্তাও রয়েছে।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী