চরের মানুষের পাশে থেকে ‘এশিয়ার নোবেল’, রুনা খানের গল্প
প্রত্যন্ত চরাঞ্চল। চারপাশে শুধু নদী আর বালুচর। যেখানে চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা নাগরিক জীবনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও অনেক সময় পৌঁছায় না। নদীভাঙনে ঘর হারানো, এক চর থেকে আরেক চরে বাস্তুচ্যুত হওয়া-এসবই সেখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। কখনো হয়তো একটি অসুস্থ শিশুকে ছোট্ট ঠেলাগাড়িতে করে নিয়ে আসা হয় ভাসমান হাসপাতালে। চিকিৎসা শেষে সেই শিশুই এক বছর পর হাসপাতালের সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট খেলছে।
এই মানুষগুলোর কাছেই চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও মৌলিক অধিকার পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে ‘ফ্রেন্ডশিপ’। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে শুরু হয়ে আজ প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে সমন্বিত উন্নয়নের একটি বৈশ্বিক মডেলে। প্রতি বছর প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের কাছে বিভিন্ন ধরনের সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ।
এই দীর্ঘ পথচলার নেপথ্যের মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত সামাজিক উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক রুনা খান। প্রত্যন্ত ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি তিনি পেয়েছেন ২০২৬ সালের র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার-যা এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২৫ সালের আর্থশট পুরস্কারও পেয়েছে ফ্রেন্ডশিপ। প্রতিষ্ঠানটির আজ বৈশ্বিক মঞ্চে স্বীকৃতি-এই দীর্ঘ যাত্রা, চরাঞ্চলের মানুষের জীবন বদলের গল্প এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেছেন-রুনা খান। বিস্তারিত জানাচ্ছেন শাহজালাল রোহান।
এনটিভি অনলাইন: এই বিশেষ অ্যাওয়ার্ডটি পাওয়ার বিষয়টি যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো, তখন আপনার মনের অনুভূতি কেমন ছিল?
রুনা খান: যখন অ্যাওয়ার্ডটি পাওয়ার ঘোষণা হলো, তখন প্রথম যে অনুভূতিটা হয়েছিল তা হলো-‘ও মাই গড, আনবিলিভেবল!’ এটি আসলেই অবিশ্বাস্য এবং ভীষণ আনন্দের মুহূর্ত ছিল। তবে সত্যি বলতে, এই খুশিটা শুধুই আমার নিজের জন্য ছিল না। আমার মূল আনন্দটা ছিল অন্য জায়গায়-যাদের জন্য এবং যাদের সাথে আমরা বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছি; যেমন গ্রামের, গঞ্জের কিংবা চরের সাধারণ মানুষগুলো। পাশাপাশি আমার অর্গানাইজেশনের সমস্ত সহকর্মী, যারা নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য আমার এই আনন্দ।
এনটিভি অনলাইন: আপনার প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপের কাজের মডেল বা ধারাটি কিছুটা ব্যতিক্রমী। এটি সম্পর্কে কিছু বলবেন?
রুনা খান: হ্যাঁ, এটি কিছুটা ভিন্নধর্মী। ফ্রেন্ডশিপ মূলত বিশ্বের প্রথম এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যেটি গ্লোবাল সাউথ (বাংলাদেশ) থেকে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংস্থায় রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষের সেবায় এই মডেলটি গড়ে উঠেছিল। এমনকি রুটলেজ থেকে প্রকাশিত একটি বইয়েও এই বিষয়টি উঠে এসেছে-‘ব্রেকিং দ্য নর্থ-সাউথ ডিকটমি অফ ডেভেলপমেন্ট’। এটি উন্নয়নের চিরাচরিত ধারার ঠিক উল্টো একটি মডেল তৈরি করেছে। আমি সবসময় চেয়েছি মানুষ যেন আমার কাজের উদ্দেশ্যের পাশাপাশি কাজের ধরণ বা কৌশলকেও বিশ্বাস করে। আমরা ঠিক যেভাবে কাজ করি, সেই বিশ্বাস থেকেই যেন ফান্ডিংটা আসে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, উনারা কেবল বিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে আমার সাথে ২৫টি বছর পার করে দিয়েছেন। তাই অ্যাওয়ার্ডটি পাওয়ার পর আমার মনে বারবার এটাই এসেছে-আমরা যাদের জন্য কাজ করি এবং যারা আমাদের বিশ্বাস করেছেন, এই অর্জনে তারা আজ কতটা খুশি হবেন! আমার কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এনটিভি অনলাইন: চরাঞ্চলে কাজ শুরু করার প্রথম অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে সেখানে ভাসমান হাসপাতালের উদ্ভাবনী ভাবনাটি কীভাবে এলো?
রুনা খান: প্রায় ২৫ বছর আগে যখন আমি প্রথম চরাঞ্চলে যাই, তখন আমার তীব্র ধাক্কা লাগে। সেখানে মানুষের দুর্দশা দেখে ভীষণ কষ্ট হয়েছিল। আমরা তো সবাই একই দেশের মাটিতে জন্মেছি, অথচ চরের মানুষগুলোর কোনো আশা বা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ ছিল না। সেই উপলব্ধি থেকেই মূলত কাজের ভাবনা আসে। আমার সাবেক স্বামী ফ্রান্স থেকে একটি ‘রিভার বার্জ’ (নৌযান) নিয়ে এসেছিলেন। সেটি দিয়ে কী করা যায় ভাবছিলাম। তখন আমার বাবা এটি দিয়ে একটি ভাসমান ক্লিনিক তৈরি করার পরামর্শ দেন। আগে থেকেই আমরা নৌকায় চরে যেতাম, তাই সিদ্ধান্ত নিই জাহাজটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করার।
এনটিভি অনলাইন: শুরুতে ফান্ডিং পাওয়া এবং স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা বা প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
রুনা খান: এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, কারণ চরের বাস্তবতায় সেবা দিতে গেলে পুরো ডেলিভারি সিস্টেমটাই বদলে ফেলতে হয়। এমনকি একটি ইনোভেশন ফান্ডে গিয়ে যখন আমরা ভাসমান হাসপাতালের কথা বলি, তারা বলেছিল- ‘এটি বড্ড বেশি ইনোভেটিভ, সম্ভব নয়!’ তবে আমি মানুষকে ফেলে আসতে পারিনি, নিজের ভেতরের তাড়না থেকেই চেষ্টা চালিয়ে গেছি। চরের মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও আমাদের হাসপাতাল জাহাজ থেকে একটি লাইফবয় পর্যন্ত চুরি হয়নি। চরের মানুষই এটি পাহারা দেয় এবং রক্ষা করে; কারণ তারা জানে এখান থেকে তারা চিকিৎসা ও সেবা পাচ্ছে।
এনটিভি অনলাইন: চরাঞ্চলে আপনাদের কাজের প্রভাব এবং স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন কতটা দৃশ্যমান?
রুনা খান: আগের আর এখনকার পরিস্থিতির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য তৈরি হয়েছে। চরের যে মানুষগুলো আগে ১০০ বা ৫০০ টাকাও কখনো চোখে দেখেনি, তারাই এখন ব্যবসা ও ট্রাক্টর কেনার জন্য ৫ লাখ, ১০ লাখ বা ২০ লাখ টাকার লোনের আবেদন করছে! আমরা প্রতিবছর প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে সরাসরি সেবা দিয়ে থাকি। হাজার হাজার মানুষ যারা একসময় ঠিকমতো হাঁটতেও পারত না, তারা সেবা পেয়ে সুস্থ হয়েছে। এক চরে এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ছোট ঠেলাগাড়িতে করে নিয়ে আসা হয়েছিল, চিকিৎসা পাওয়ার পর পরের বছর সেই শিশুটি আমাদের হাসপাতাল জাহাজের সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট খেলছে এমন ছবিও আমরা পেয়েছি। বড় এনজিওগুলোর সাথে তুলনা করলে আমাদের অর্থের পরিমাণ অনেক কম, কিন্তু আমরা প্রতিটি কাজের সর্বোচ্চ 'ইম্প্যাক্ট' নিশ্চিত করি। আমার দর্শন হলো-আপনি যাদের জন্য কাজ করছেন, তাদের জীবনকে আগের চেয়ে উন্নত অবস্থায় রেখে আসতে হবে।
এক সময় আমরা এমন চরেও গেছি (যেমন চিলমারির চর), যেখানে ৫ম শ্রেণি পাস কোনো মানুষও ছিল না। অন্য চর থেকে মানুষ এনে শিক্ষক বানাতে হতো। আর এখন সেই চরের ছেলেমেয়েরাই পড়াশোনা করে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (১৬ জন বৃত্তি পেয়েছে), রংপুর মেডিকেল কলেজসহ সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ছে! চরের তরুণরা এখন কোডিং শিখে ফ্রিল্যান্সিং করে ডলারে টাকা আয় করছে, ফ্রান্সের ‘ইউথ পার্লামেন্ট’ ও জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ’-এ বক্তব্য দিতে যাচ্ছে এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ইয়াং গ্লোবাল লিডার্স হওয়ার আবেদন করছে।
এনটিভি অনলাইন: জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট প্রভাব চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে কতটা কঠোর?
রুনা খান: জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাস্তব সত্য। আমরা যখন কাজ শুরু করি, তখন ৬ থেকে ১২ বছরের ব্যবধানে ২-৩ বছর পর হয়তো একটি স্কুল ভাঙনের মুখে সরাতে হতো। পরবর্তীতে প্রতিবছরই স্কুল শিফট করতে হয়েছে, এমনকি ২০১৯ সালে নদী ভাঙনের কারণে এক বছরেই ১৬টি স্কুল স্থানান্তর করতে হয়েছিল! আগে মানুষ বলত জীবনে ৬-৮ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে, আর এখন গত ৫-১০ বছরের মধ্যেই অনেকে ৩০ বার পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শহরের মানুষ এসি চালিয়ে মানিয়ে নিতে পারে, কিন্তু চরের মানুষের ক্ষেত্রে অতিবৃষ্টি বা ২-৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যাওয়া সরাসরি জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। আমি এমন দৃশ্যও দেখেছি, যেখানে আগুনে পুড়ে যাওয়া এক শিশু তিন দিন ধরে একটানা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিল, কারণ পুরো চরে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগ বা ডিমও ছিল না ক্ষতস্থানে দেওয়ার মতো। আবার এক নারী তাঁর ‘বার্জারস ডিজিজ’ (পচনের মতো রোগ)-এ আক্রান্ত স্বামীর জন্য ভিক্ষা করতে কয়েক দিন কষ্ট করে ঢাকায় এসে চাল-ডাল কিনে নিয়ে যেতেন। এই যে বাস্তবতা, আমি নিজে এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। সমাজ বা মানুষের জন্য কাজ করার সামর্থ্য যার আছে, সে যদি চোখ বন্ধ করে হাঁটে বা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। আমি অন্তত মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে পারি না।
এনটিভি অনলাইন: চরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আপনার প্রত্যক্ষ কোনো কষ্টের অভিজ্ঞতার কথা বলবেন কি?
রুনা খান: বাইরে থেকে অনেকেই মনে করেন যে দেশের সব জায়গায় হয়তো পরিষেবা বা এনজিওর সুবিধা পৌঁছে গেছে। কিন্তু বাস্তবতায় চরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের কাছে কোনো মৌলিক সেবা পৌঁছায় না। আমি নিজেই এমন দৃশ্যের প্রত্যক্ষদর্শী।
উপযুক্ত চিকিৎসার অভাব: আগুনে পুড়ে যাওয়া এক শিশু তিন দিন ধরে একটানা কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে ঢলে পড়েছিল; কারণ পুরো চরে কোনো মলম বা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা তো দূরের কথা, একটা ডিম পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ক্ষতস্থানে দেওয়ার জন্য।
জীবিকার চূড়ান্ত সংকট: এক চরে দেখেছি এক নারী, যার স্বামী 'বার্জারস ডিজিজ'-যা কুষ্ঠ রোগের মতোই ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক-রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলেন। সেই নারী ২-৩ দিন ধরে হেঁটে, নৌকায় ও বাসে চড়ে ঢাকায় আসতেন এবং কয়েক সপ্তাহ ভিক্ষা করে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজ কিনে আবার চরে ফিরে যেতেন তাঁর অসুস্থ স্বামী ও সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য।
এনটিভি অনলাইন: এই চরম প্রতিকূলতা ও মানুষের কষ্ট দেখে আপনার কাজের তাড়না বা অনুভূতি কেমন ছিল?
রুনা খান: আমি বা আমার সাথে থাকা প্রতিনিধিরা কেউ এই গল্পগুলো অন্য কারও কাছে শুনিনি, আমরা নিজেদের চোখে দেখেছি। আমার মনে হয়, কোনো মানুষ যখন কিছু করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চোখ বন্ধ করে চলে যায় বা নীরব থাকে, তার চেয়ে বড় কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। আপনি যখন সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব বুঝতে পারবেন এবং সেটা পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এড়িয়ে যাবেন, তখন তা মেনে নেওয়া অসম্ভব। আমি সেই পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে পারিনি, আর তাই আজও এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এনটিভি অনলাইন: দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে আপনার মূল দর্শন এবং সরকারের কাছে চাওয়া কী?
রুনা খান: যেকোনো দেশের জনসংখ্যার ৩০-৪০% মানুষ যদি দারিদ্র্যের মধ্যে থাকে, তবে সেই দেশকে এগোনো যায় না। এটি এমন এক গাছের মতো যার শিকড় পচে যাচ্ছে-বিশাল দারিদ্র্যের বোঝা পুরো দেশকে নিচে টেনে নামাবে। সরকার ও সমাজের কাছে আমার মূল ৩টি চাওয়া -
১. আশা: মানুষের মনে এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে তারা এই দেশে থেকেই বেঁচে থাকতে পারবে ও এগোতে পারবে।
২. সহায়তা: একদম নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৩. ন্যায়বিচার : কোনো দেশে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও আশা না থাকলে মানুষ সেখানে থাকতে চায় না।
এনটিভি অনলাইন: ফ্রেন্ডশিপের মডেল ছড়াতে আপনাদের পরিকল্পনা এবং তরুণদের প্রতি আপনার আহ্বান কী?
রুনা খান: আমাদের সমন্বিত কাজগুলোকে আমরা বলছি ইন্টিগ্রেটেড ক্লাইমেট অ্যাডাপ্টেশন সলিউশনস। অন্য কেউ এই মডেল অনুকরণ করতে চাইলে আমরা পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করতে প্রস্তুত। তরুণদের উদ্দেশ্যে বলব-জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস সময়, তাই প্রতিটি মুহূর্তের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। নীতি-নৈতিকতা, সাহস ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়। আর অর্থের অভাবকে বাধা না ভেবে আগে স্বপ্ন দেখুন। মানুষের ভেতরের যে ইচ্ছাশক্তি আর চেষ্টার আগুন, তা কখনো টাকা দিয়ে কেনা যায় না। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন-‘টাকা কোথায় পাব?’ কিন্তু টাকা সবকিছুর সমাধান নয়, কেবল অর্থ দিয়ে মনের ভেতর পরিবর্তন বা আগুন জ্বালানো যায় না। আমি বলব, আগে স্বপ্ন দেখুন। অর্থ না থাকলেও নিজের সামর্থ্য ও শক্তি দিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অন্তত একটি ম্যাচের কাঠি জ্বালান, চেষ্টা শুরু করুন। মানুষের ভেতরের ইচ্ছাশক্তি আর চেষ্টার যে শক্তি, তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
এনটিভি অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ।
রুনা খান: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

শাহজালাল রোহান