টুঙ্গিপাড়ায় ছাত্রীদের কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, শিক্ষক বরখাস্ত
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ডেকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বিক্ষোভ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কুরুচিপূর্ণ কথা ও কুপ্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে জানাজানি হলে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক তাকে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং শরীরের পালস মাপার কথা বলে বোরকা খুলতে বলেন। বিষয়টি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থী জ্যোতি সরকার অভিযোগ করে বলেন, ফারুক স্যার বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন।
কেউ কেউ তাকে শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা এবং একা দেখা করতে বলার অভিযোগ করেছেন।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক আমাকে একা ডেকে ‘সোনার ময়না পাখি’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তার পোশাক ও ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করতেন।
অন্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ফলাফল দেখানোর কথা বলে তাকে একা ডেকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বলতেন।
আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষক তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করতেন এবং একা ডেকে বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর কথা বলতেন। এসব বিষয় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানিয়েও প্রতিকার পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘এ ধরনের আচরণের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে উঠেছে, এমন শিক্ষককে আমরা বিদ্যালয়ে দেখতে চাই না। তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’’
তবে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার বলেন, ‘‘টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মাসুদ পারভেজ, গোপালগঞ্জ